
বন্ধ কলকারখানা পুনরায় চালু করা এবং স্থবির হয়ে পড়া সামগ্রিক অর্থনীতিকে গতিশীল করার লক্ষ্যে নতুন একটি নীতি সহায়তা প্যাকেজ ঘোষণা করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এই প্যাকেজের মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে উৎপাদন বন্ধ থাকা শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোকে পুনরুজ্জীবিত করার পাশাপাশি কর্মসংস্থান সৃষ্টি, বিনিয়োগ প্রবাহ বাড়ানো এবং ব্যাংকিং খাতে তারল্য ব্যবস্থাপনাকে আরও কার্যকর করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
এই গুরুত্বপূর্ণ নীতি সহায়তা প্যাকেজ ঘোষণা উপলক্ষে শনিবার (২৩ মে) দুপুরে রাজধানীর মতিঝিলে অবস্থিত বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের চতুর্থ তলায় জাহাঙ্গীর আলম কনফারেন্স হলে একটি আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা প্যাকেজটির বিস্তারিত কাঠামো, লক্ষ্য এবং বাস্তবায়ন কৌশল তুলে ধরবেন বলে জানা গেছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, সাম্প্রতিক সময়ে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, অভ্যন্তরীণ বিনিয়োগে ধীরগতি, উচ্চ সুদের চাপ এবং ডলার সংকটের প্রভাবে দেশের বেশ কিছু শিল্প ইউনিট উৎপাদন বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়েছে। বিশেষ করে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (এসএমই), রফতানিমুখী তৈরি পোশাক খাতের কিছু অংশ এবং আমদানি নির্ভর উৎপাদন খাতে এ স্থবিরতা বেশি লক্ষ্য করা গেছে।
প্রস্তাবিত নীতি সহায়তা প্যাকেজে বন্ধ হয়ে যাওয়া কলকারখানাগুলোকে পুনরায় চালুর জন্য সহজ শর্তে পুনঃঅর্থায়ন সুবিধা, ঋণ পুনর্গঠন (রিস্ট্রাকচারিং), সুদের হার সমন্বয় এবং দীর্ঘমেয়াদি কিস্তি সুবিধা দেওয়ার বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে। একইসঙ্গে নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং উৎপাদন সক্ষমতা বাড়াতে ব্যাংকগুলোর জন্য বিশেষ তারল্য সহায়তার ব্যবস্থাও রাখা হতে পারে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে উচ্চ মুদ্রাস্ফীতি, রিজার্ভ চাপ এবং বৈদেশিক মুদ্রার বাজারে অস্থিরতার কারণে বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ কিছুটা শ্লথ হয়ে পড়ে। ফলে শিল্প উৎপাদন কমে যাওয়া এবং অনেক কারখানা আংশিক বা সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়ে যাওয়ার প্রবণতা দেখা দিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এ ধরনের নীতি সহায়তা প্যাকেজ অর্থনীতিতে আস্থা ফেরাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে তারা মনে করছেন।
এছাড়া, ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণ বৃদ্ধির চাপ কমানো এবং আর্থিক খাতকে স্থিতিশীল রাখার লক্ষ্যও এই উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে এই প্যাকেজ শিল্প খাতে নতুন প্রাণ সঞ্চার করতে পারে এবং কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
আজকের সংবাদ সম্মেলনে নীতি নির্ধারণী পর্যায়ের শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত থাকবেন বলে জানা গেছে। সংবাদ সম্মেলনের পর বিস্তারিত নীতিমালা ও নির্দেশনা ব্যাংকগুলোর কাছে পাঠানো হবে, যার মাধ্যমে পর্যায়ক্রমে প্যাকেজটির বাস্তবায়ন শুরু হবে।
সব মিলিয়ে, বন্ধ শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলো পুনরায় সচল করা এবং অর্থনীতির গতি ফিরিয়ে আনার উদ্দেশ্যে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই উদ্যোগকে একটি সময়োপযোগী পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

