
শনিবারের সকালটির একটা আলাদা মেজাজ আছে। অফিসের তাড়া নেই, ফাইলের মুখ গম্ভীর নয়, শহরও যেন একটু দেরিতে চোখ মেলে। কিন্তু সংবাদপত্রের পাতায় আজকের বাংলাদেশকে দেখে মনে হয়, রাষ্ট্রের ঘুম ভাঙার কোনো ছুটির দিন নেই। বঙ্গভবনে নতুন রাষ্ট্রপতির শপথ, মন্ত্রিসভায় নতুন মুখ, হাসপাতালে কর্মস্থলে উপস্থিতি নিশ্চিত করার নতুন ব্যবস্থা, ঢাকার যানজট দেখতে আকাশে ড্রোন, সীমান্তের ওপারে একটি সরকারি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ হয়ে আবার প্রত্যাহার—আর দেশের ভেতরে গ্যাসের অনিশ্চয়তা। সব মিলিয়ে মনে হয়, রাষ্ট্রের দরজা কয়েকটি খুলেছে, কিন্তু জানালাগুলোর অবস্থা এখনও একটু রহস্যময়।
গতকাল বঙ্গভবনে বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নিয়েছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। স্বাগত অভিনন্দন মহামান্য রাষ্ট্রপতি। একই দিনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরকারের ছয় মাস পূর্তিতে মন্ত্রিসভায় যোগ দিয়েছেন চারজন মন্ত্রী ও দুজন প্রতিমন্ত্রী। নতুন মুখের তালিকা থেকে নতুন তথ্য মন্ত্রী পেলো বাংলাদেশ।
রাষ্ট্রের দায়িত্বে নতুন মানুষ আসা অবশ্যই আশা জাগানিয়া খবর। কিন্তু রাষ্ট্রের জন্য আরও বড় খবর হলো—নতুন মানুষগুলো পুরোনো কাজকে কতটা নতুন করে করতে পারেন। মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণের অনুষ্ঠানে শপথের ভাষা খুব সুন্দর; সেখানে দেশ, সংবিধান, সততা, কর্তব্য—সব শব্দই যথাস্থানে থাকে। আসল পরীক্ষা শুরু হয় শপথের পরদিন সকাল থেকে। তখন কোনো ক্যামেরা থাকে না, ফুল থাকে না, করতালিও থাকে না। থাকে শুধু ফাইল, কর্মকর্তা, বাজেট, মানুষের দাবি এবং সেই চিরন্তন সরকারি প্রশ্ন—‘বিষয়টি বিবেচনাধীন’। বাংলাদেশে ‘বিবেচনাধীন’ শব্দটির বয়স সম্ভবত কয়েকটি মন্ত্রণালয়ের সম্মিলিত বয়সের চেয়েও বেশি।
এই কারণেই সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে বায়োমেট্রিক ফেস রিকগনিশন ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগটি ছোট খবর বলে মনে হলেও এর মধ্যে রাষ্ট্রচিন্তার একটি বড় কথা আছে। কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকলে বেতন বিল আটকে দেওয়ার কথাও বলা হয়েছে। রাষ্ট্র যদি নাগরিকের কাছ থেকে নিয়ম মানার প্রত্যাশা করে, তবে রাষ্ট্রের নিজের কর্মচারীকেও সেই নিয়মের মধ্যে থাকতে হবে। বায়োমেট্রিক যন্ত্র মুখ চিনবে—এতে আপত্তির কিছু নেই। বরং ভালোই। তবে তার চেয়েও ভালো হয় যদি একদিন সরকারি অফিসের দরজায় দাঁড়ানো মানুষটি যন্ত্র ছাড়াই বুঝতে পারেন—আজ তার কাজটি হবে। এমনটা কী সম্ভব যে, সেবা প্রত্যাশী জনগণ তাদের ফেস দেখিয়ে এআইকে বলে যেতে পারে, তার কাজটি হয়েছে, কী হয়নি, কে ঘুরিয়েছে, কে টাকা খেয়েছে বা চেয়েছে, অথবা বড় কোনো দুর্নীতির খবরটি সে বলে যেতে পারে, সযা সমন্বিত করে গোয়েন্দা সংস্থাকে, সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধানকে জানিয়ে দিতে পারে এআই। এমন ব্যবস্থাটি যদি সেবাদানকারী সকল প্রতিষ্ঠানে হতো? রাষ্ট্র যদি কর্মচারীর মুখ চিনতে পারে, তবে নাগরিকের মুখের কথাটিও কি রাষ্ট্র শুনতে পারবে না?
এই ‘উপস্থিতি’র কথাটিই আজ জনস্বাস্থ্যের আরেকটি খবরে অন্য অর্থ পেয়েছে। দেশের ১৪টি উচ্চঝুঁকিপূর্ণ উপজেলা ও এলাকায় আজ থেকে শুরু হয়েছে প্রতিরোধমূলক ওরাল কলেরা টিকাদান কর্মসূচি। বিপুলসংখ্যক মানুষকে এই কর্মসূচির আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বড় রাষ্ট্রের বড় বড় প্রকল্পের পাশে এই খবরটি হয়তো পত্রিকার পাতায় ছোট জায়গা পাবে; কিন্তু একটি দরিদ্র পরিবারের কাছে একটি শিশুকে অসুস্থতা থেকে বাঁচানো কখনো ছোট প্রকল্প নয়। রাষ্ট্রের সবচেয়ে সুন্দর মুখটি মাঝে মাঝে সংসদের গ্যালারিতে নয়, গ্রামের একটি টিকাদান কেন্দ্রে দেখা যায়।
ঢাকার মানুষ অবশ্য রাষ্ট্রের আরেকটি নতুন মুখ দেখতে চলেছে—আকাশের মুখ। যানজট নিয়ন্ত্রণে ডিএমপি ড্রোন ব্যবহার করে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও মোড়গুলো নজরদারির পরিকল্পনা করেছে। এতে সামাজিক মাধ্যমে নানা প্রতিক্রিয়া হওয়াই স্বাভাবিক। ঢাকার মানুষ বহু বছর ধরে যানজটের সঙ্গে এমন ঘনিষ্ঠ বন্ধুত্ব করেছে যে, এখন আকাশ থেকে কেউ তাকে দেখবে শুনে তার একটু লজ্জা লাগতেই পারে। তবে ড্রোনের চোখ যতই তীক্ষ্ণ হোক, সে শুধু দেখতে পারবে—কোথায় গাড়ি দাঁড়িয়ে আছে। কেন দাঁড়িয়ে আছে, সেই প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে মানুষকেই। রাস্তা কম, গাড়ি বেশি, অবৈধ পার্কিং, দুর্বল ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা, সিগন্যালের সমন্বয়হীনতা—ড্রোন ছবি তুলবে; সংস্কার করতে হবে আমাদের।
প্রযুক্তির একটি চমৎকার গুণ আছে—সে অজুহাতকে খুব একটা পছন্দ করে না। ক্যামেরায় যদি দেখা যায় একটি মোড়ে প্রতিদিন একই সময়ে একই জট, তবে ‘হঠাৎ যানজট’ বলা কঠিন হয়ে যাবে। এই অর্থে ড্রোন কেবল ট্রাফিক পুলিশ নয়; এক অর্থে সে রাষ্ট্রের জন্যও একটি আয়না।
রাষ্ট্রের আয়না এবার সীমান্ত পেরিয়ে কূটনীতির ঘরে গিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য দিল্লি সফর নিয়ে ভারতের একটি সরকারি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর সেটি প্রত্যাহার করা হয়েছে। খবরটি সামাজিক মাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়েছে এবং নানা ব্যাখ্যার জন্ম দিয়েছে।
কূটনীতিতে কখনো একটি শব্দও খবর হয়, একটি কমাও কখনো কখনো খবর হয়। আর একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে আবার তুলে নেওয়া হলে তো কথাই নেই। বাইরে থেকে দেখে মনে হয়, জানালাটি একটু খুলেছিল; তারপর কেউ ভেতর থেকে বলল—না, এখনই নয়।
তবে একই সময়ে ভারতের রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু বাংলাদেশের নতুন রাষ্ট্রপতিকে অভিনন্দন জানিয়েছেন এবং দুই দেশের সম্পর্ক আরও জোরদার করার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। অর্থাৎ একদিকে একটি প্রত্যাহৃত বিজ্ঞপ্তি, অন্যদিকে রাষ্ট্রপ্রধানের শুভেচ্ছা। কূটনীতি এমনই—এক হাতে করমর্দন, অন্য হাতে নোটবুক; হাসিটা থাকে মুখে, হিসাবটা থাকে ভেতরে।
এখানে আজকের সম্পাদকীয় আলোচনার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে আসে। বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক কি একজন ব্যক্তি, একটি ঘটনা কিংবা একটি প্রত্যর্পণ ইস্যুর মধ্যে আটকে থাকবে? নিশ্চয়ই নয়। ব্যক্তির রাজনৈতিক ভাগ্য গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে, কিন্তু রাষ্ট্রের সম্পর্ক তার চেয়ে দীর্ঘজীবী হওয়া উচিত। প্রত্যর্পণ যদি আইনি প্রক্রিয়ার বিষয় হয়, তবে সেটিকে আইনের পথেই চলতে দেওয়া দরকার। প্রতিবেশী রাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কও হওয়া উচিত পারস্পরিক স্বার্থ, সম্মান ও বাস্তবতার ভিত্তিতে। একজন মানুষকে কেন্দ্র করে পুরো সম্পর্কের নকশা আঁকা হলে মানুষটি বদলানোর সঙ্গে সঙ্গে নকশাটিও বদলে যাবে—রাষ্ট্রের জন্য সেটি খুব বুদ্ধিমানের কাজ নয়।
আর এ কারণেই বদলে যাওয়া ভূ-রাজনীতিতে ‘আমরা কার সঙ্গে?’ প্রশ্নটির চেয়ে ‘আমাদের স্বার্থ কোথায়?’ প্রশ্নটি বেশি জরুরি। ইসলামিক ন্যাটো, আঞ্চলিক জোট, সমমনা রাষ্ট্রের কৌশলগত অংশীদারিত্ব—সবই আলোচনার বিষয় হতে পারে। কিন্তু বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির কেন্দ্রে থাকতে হবে বাংলাদেশের অর্থনীতি, নিরাপত্তা, বাণিজ্য, সমুদ্র, জ্বালানি এবং সার্বভৌম সিদ্ধান্তের অধিকার।
জোট করা যায়; কিন্তু জোটের সঙ্গে নিজের মাথাটিও রাখতে হয়। পৃথিবীর বড় শক্তিগুলো বন্ধুত্বের ভাষায় কথা বললেও তাদের পকেটে ক্যালকুলেটর থাকে। ছোট রাষ্ট্রেরও তাই থাকা উচিত। পার্থক্য শুধু এই—বড় রাষ্ট্র ক্যালকুলেটর দিয়ে অন্যের হিসাব করে, ছোট রাষ্ট্রকে নিজের হিসাবটা আগে করতে হয়।
এদিকে নিজের ঘরের হিসাবেই আজ সবচেয়ে বড় অঙ্ক—গ্যাস। আজকের একটি প্রতিবেদনে এক্সিলারেট এনার্জির টার্মিনাল থেকে এলএনজি সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় গ্যাস সংকট আরও তীব্র হওয়ার কথা এসেছে। আগের কয়েক দিনের পুরোনো শিল্প-বন্ধের সংখ্যা আমরা আজ টেনে আনছি না; আজকের সংবাদটি আজকের মতোই থাকুক। কিন্তু এর তাৎপর্য পুরোনো নয়। গ্যাসের সরবরাহ কমলে শুধু চুলা নেভে না—কারখানার চাকা ধীর হয়, বিদ্যুৎ উৎপাদন চাপে পড়ে, উৎপাদন ব্যয় বাড়ে, শেষ পর্যন্ত বাজারে তার প্রতিধ্বনি শোনা যায়।
এই জায়গায় এসে আজকের আরেকটি সম্পাদকীয় প্রশ্নের সঙ্গে গ্যাসের পাইপটি যেন নিজেই জুড়ে যায়। রাজস্ব বাড়াতে হবে, উন্নয়ন পরিকল্পনা করতে হবে, রেলওয়ের দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ করতে হবে—সবই সত্য। কিন্তু রাষ্ট্রের হিসাবের খাতায় যদি ভবিষ্যতের ট্রিলিয়ন টাকা থাকে আর বর্তমানের শিল্পে গ্যাস না থাকে, তাহলে ভবিষ্যৎটি একটু কাগজের মতো দেখায়। একটি সম্পাদকীয় রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ও বাস্তবতার টানাপোড়েনের দিকে ইঙ্গিত করেছে; একই সঙ্গে রেলওয়ের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন পরিকল্পনাও সামনে এসেছে।
ভবিষ্যতের রেললাইন অবশ্যই আঁকতে হবে। কিন্তু রেললাইন দিয়ে ট্রেন চলে; ট্রেন দিয়ে মানুষ ও পণ্য চলে; আর সেই অর্থনীতি চলার জন্য আজকের জ্বালানিও লাগে। রাষ্ট্রের পরিকল্পনায় তাই ‘আজ’ ও ‘আগামীকাল’-এর মধ্যে কোনো ঝগড়া থাকা উচিত নয়। দুজনকে একই টেবিলে বসাতে হবে।
সামাজিক মাধ্যমের দুটি আলোচিত বিষয়—দিল্লির প্রত্যাহৃত বিজ্ঞপ্তি এবং ডিএমপির ড্রোন—আসলে আমাদের সময়ের একটি নতুন বৈশিষ্ট্যও দেখায়। মানুষ এখন শুধু রাষ্ট্রের সিদ্ধান্ত জানতে চায় না, সিদ্ধান্তের অন্তর্লীন অর্থও জানতে চায়। আগে খবরের সঙ্গে সম্পাদকীয় পড়তে হতো; এখন মানুষ একই মুহূর্তে খবর, মন্তব্য, ব্যঙ্গ, অনুমান এবং গুজব—সব একসঙ্গে পেয়ে যাচ্ছে। সুবিধা হলো তথ্যের গতি বেড়েছে; বিপদ হলো সত্যের সঙ্গে কল্পনাও একই গতিতে দৌড়ায়। সুতরাং ভাইরাল হওয়া মানেই সত্য হওয়া নয়। কখনো কখনো একটি ভুল খবরও এত দ্রুত ছড়ায় যে সত্যটি পরে এসে দেখে, তার জন্য কোনো আসন সংরক্ষিত নেই।
দূরের পৃথিবীও আজ শান্ত নয়। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের সংঘাত, হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে উত্তেজনা এবং নতুন নিষেধাজ্ঞার হুমকি আবারও বিশ্ব জ্বালানি বাজারকে অনিশ্চয়তার মুখে ফেলেছে। বাংলাদেশের মানুষ হয়তো মানচিত্রে হরমুজ প্রণালির অবস্থান দেখিয়ে দিতে পারবেন না; কিন্তু জ্বালানির দাম, গ্যাসের সরবরাহ কিংবা পরিবহন ব্যয়ের মাধ্যমে সেই প্রণালির খবর তার ঘরে পৌঁছে যায়।
ইউক্রেনের যুদ্ধও একই শিক্ষা দেয়। ক্রিভি রিহ-তে রুশ ড্রোন হামলায় বেসামরিক মানুষের প্রাণহানির খবর এসেছে। যুদ্ধের প্রযুক্তি যত আধুনিক হচ্ছে, মানুষের কান্না তত পুরোনোই রয়ে যাচ্ছে। ড্রোন আকাশে উড়ে, কিন্তু তার ছায়া পড়ে মানুষের ঘরে।
আজকের পৃথিবীতে তাই দূরত্ব বলে কিছু নেই। হরমুজের জল ঢাকার বাজারে ঢেউ তোলে, ইউরোপের যুদ্ধের ধোঁয়া এশিয়ার অর্থনীতিতে এসে বসে, দিল্লির একটি বিজ্ঞপ্তি ঢাকার সামাজিক মাধ্যমে রাতারাতি আলোচনার বিষয় হয়, আর ঢাকার যানজটের ছবি এখন আকাশ থেকেও দেখা যাবে।
এই পৃথিবীতে বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে বড় প্রয়োজন বোধ হয় আতঙ্ক নয়—সুস্থ রাষ্ট্রবোধ। নতুন রাষ্ট্রপতি এসেছেন, নতুন মন্ত্রী এসেছেন, প্রশাসনে জবাবদিহির নতুন ব্যবস্থা আসছে, জনস্বাস্থ্য কর্মসূচি চলছে, প্রযুক্তি দিয়ে শহরকে দেখার চেষ্টা হচ্ছে। এগুলো সবই পরিবর্তনের লক্ষণ। কিন্তু পরিবর্তনের চূড়ান্ত মাপকাঠি খুব কঠিন নয়।
মানুষের জীবন কি একটু সহজ হলো?
হাসপাতালে ডাক্তারকে পাওয়া গেল কি না।
শিশুটি কলেরা থেকে বাঁচল কি না।
যানজটে এক ঘণ্টার বদলে আধঘণ্টা লাগল কি না।
কারখানার চুল্লিতে গ্যাস এল কি না।
প্রতিবেশী রাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কটি সম্মানের সঙ্গে চলল কি না।
রাষ্ট্রের সিদ্ধান্তে মানুষ নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে একটু বেশি নিশ্চিন্ত হলো কি না।
রাষ্ট্রের সমস্ত তত্ত্ব শেষ পর্যন্ত এসে এই ছোট ছোট প্রশ্নের কাছে দাঁড়ায়। শনিবারের সকাল তাই আমাদের আজ খুব বেশি কিছু চাইতে বলে না। শুধু বলে—দরজা খুলুন, কিন্তু জানালা বন্ধ করবেন না।
নতুন মানুষ আসুক, নতুন পরিকল্পনা হোক, নতুন প্রযুক্তি আসুক। কিন্তু রাষ্ট্রের ঘরে যেন বাতাস ঢোকে। কারণ দরজা দিয়ে ক্ষমতা প্রবেশ করতে পারে, পরিকল্পনা প্রবেশ করতে পারে, বিদেশি বিনিয়োগও প্রবেশ করতে পারে; কিন্তু মানুষের আস্থা সাধারণত জানালা দিয়েই আসে—নিঃশব্দে, ধীরে, নিজের ইচ্ছায়। আর আস্থা একবার বেরিয়ে গেলে তাকে ড্রোন দিয়ে খুঁজে পাওয়া যায় না।
আজকের প্রভাতবার্তার এইটুকুই কথা- দরজা খোলা থাকুক। জানালা খোলা থাকুক। আর রাষ্ট্রের ঘরের আলো যেন শেষ পর্যন্ত মানুষের ঘরেই গিয়ে পড়ে।
লেখক: সাবেক সচিব ও সিনিয়র ব্যুরোক্রেট বিশ্লেষক

