
প্রায় আড়াই শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে চলে আসা ঐতিহ্য অনুযায়ী দিনাজপুরের কান্তনগর মন্দির থেকে নদীপথে রাজবাড়ী মন্দিরে নেওয়া হচ্ছে শ্রী শ্রী কান্তজীউ বিগ্রহ। ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য, ভক্তদের উচ্ছ্বাস এবং ব্যাপক জনসমাগমের মধ্য দিয়ে বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) সকালে শুরু হয় এই ঐতিহ্যবাহী যাত্রা।
সকালে কাহারোল উপজেলার ঐতিহ্যবাহী কান্তনগর মন্দিরে পূজা, অর্চনা ও নামকীর্তনের মধ্য দিয়ে রাধা-কৃষ্ণের যুগল বিগ্রহকে বিশেষভাবে সজ্জিত নৌযানে তোলা হয়। এরপর প্রায় ১৮টি নৌকার বহর নিয়ে ঢেপা নদী হয়ে ২৪ কিলোমিটার দীর্ঘ যাত্রা শুরু করে বিগ্রহবাহী নৌযান। সন্ধ্যায় দিনাজপুর শহরের সাধুরঘাটে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।
যাত্রাপথজুড়ে ঢেপা নদীর দুই তীরে ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ। শতাধিক ঘাটে হাজার হাজার নারী-পুরুষ ভক্ত সমবেত হয়ে কান্তজীউ বিগ্রহকে বরণ করে নেন। তারা ফল-ফলাদি উৎসর্গ, প্রার্থনা ও প্রসাদ গ্রহণের মাধ্যমে নিজেদের, পরিবারের এবং সমাজের মঙ্গল কামনা করেন।
আয়োজক সূত্রে জানা যায়, দিনাজপুর রাজ পরিবারের প্রাচীন প্রথা অনুযায়ী প্রতি বছর জন্মাষ্টমীর দুই দিন আগে কান্তনগর মন্দির থেকে কান্তজীউ বিগ্রহ রাজবাড়ী মন্দিরে আনা হয়। সেখানে প্রায় তিন মাস অবস্থানের পর রাসপূর্ণিমা উপলক্ষে পুনরায় নদীপথে কান্তনগর মন্দিরে ফিরিয়ে নেওয়া হবে।
প্রায় আট ঘণ্টার যাত্রা শেষে সাধুরঘাটে পৌঁছালে জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বিগ্রহকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাগত জানাবেন। পরে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রার মাধ্যমে বিগ্রহটি রাজবাড়ী মন্দিরে নেওয়া হবে।
এই ঐতিহ্যবাহী আয়োজনকে ঘিরে প্রতিবছর দিনাজপুরজুড়ে উৎসবের আবহ সৃষ্টি হয়। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের অংশগ্রহণে এটি সম্প্রীতি, সৌহার্দ্য ও মিলনমেলায় পরিণত হয়। ভক্তদের বিশ্বাস, কান্তজীউ বিগ্রহ দর্শন ও পূজার মাধ্যমে মনোবাসনা পূরণ এবং পারিবারিক কল্যাণ লাভ করা যায়।
কাহারোল সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মনিরুজ্জামান জানান, কান্তজীউ বিগ্রহের যাত্রা নির্বিঘ্ন ও নিরাপদ করতে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। যাত্রাপথের ৪৬টি ঘাটসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। পাশাপাশি সার্বক্ষণিক নজরদারির ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে, যাতে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই ধর্মীয় এই আয়োজন সফলভাবে সম্পন্ন হয়।

