
বৈরি আবহাওয়ার কারণে ২০২৬ সালের এইচএসসি পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্র পরীক্ষায় অংশ নিতে না পারা পরীক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ সুযোগ দিচ্ছে আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটি। সারাদেশে যেসব পরীক্ষার্থী প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে পরীক্ষায় অনুপস্থিত ছিলেন, তারা পুনরায় নিবন্ধন (রেজিস্ট্রেশন) করে ওই পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবেন।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) দুপুরে আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির একটি সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
সূত্র জানায়, এ বিষয়ে শিগগিরই আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হবে। একই সঙ্গে পুনঃনিবন্ধনের প্রক্রিয়া, যোগ্যতা ও অন্যান্য নির্দেশনা সংবলিত বিস্তারিত নীতিমালাও প্রকাশ করা হবে।
এদিকে, বন্যা পরিস্থিতির কারণে স্থগিত থাকা চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের অধীন এইচএসসি ও সমমানের অবশিষ্ট পরীক্ষা গ্রহণের পরিবেশ তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছে বোর্ড। তবে পরীক্ষা পুনরায় শুরুর বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছে তারা।
গত মঙ্গলবার (২১ জুলাই) ঢাকা পোস্টকে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক ড. পারভেজ সাজ্জাদ চৌধুরী বলেন, পরীক্ষা নেওয়ার মতো পরিস্থিতি এখন রয়েছে। তবে আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটি ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তের পরই স্থগিত পরীক্ষাগুলোর নতুন সময়সূচি অনুযায়ী পরীক্ষা শুরু করা হবে।
এর আগে গত ১৬ জুলাই বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটি এবং মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, চট্টগ্রামের পৃথক বিজ্ঞপ্তিতে বন্যাকবলিত এলাকার সার্বিক পরিস্থিতি, পরীক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক অবস্থা, অংশীজনদের মতামত এবং সড়ক যোগাযোগে দুর্ভোগের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের অধীন ২০২৬ সালের এইচএসসি ও সমমানের অবশিষ্ট সব পরীক্ষা পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত স্থগিত করা হয়।
একই সিদ্ধান্তের আওতায় বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের আলিম এবং বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের এইচএসসি (বিএমটি), এইচএসসি (ভোকেশনাল) ও ডিপ্লোমা ইন কমার্স পরীক্ষার অবশিষ্ট সব বিষয়ও স্থগিত করা হয়। বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, স্থগিত পরীক্ষাগুলোর সংশোধিত সময়সূচি পরে পৃথক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে প্রকাশ করা হবে।
তবে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের আওতাধীন জেলার বাইরে অন্যান্য সাধারণ শিক্ষা বোর্ড, মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষাগুলো পূর্বঘোষিত সময়সূচি অনুযায়ী যথারীতি অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
উল্লেখ্য, গত ৮ জুলাই থেকে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের অধীন এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা স্থগিত রয়েছে।
চলতি বছর এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় ৯ হাজার ৪৩৯টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিচ্ছেন। তাদের জন্য মোট পরীক্ষাকেন্দ্র রয়েছে ২ হাজার ৬৯৭টি। এর মধ্যে সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ১ হাজার ৬২৬টি, মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ৪৬১টি এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ৬১০টি কেন্দ্র রয়েছে।
বোর্ডভিত্তিক হিসেবে সবচেয়ে বেশি পরীক্ষার্থী ঢাকা শিক্ষা বোর্ডে, যেখানে পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ৩ লাখ ৩৯৩ জন। এরপর রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডে ১ লাখ ৪০ হাজার ৮৩০, যশোরে ১ লাখ ১৭ হাজার ২১০, দিনাজপুরে ১ লাখ ১৩ হাজার ৪৭৯, চট্টগ্রামে ৯৯ হাজার ৬৮৮, কুমিল্লায় ৯৪ হাজার ৮০২, ময়মনসিংহে ৭৩ হাজার ৩৭, সিলেটে ৭১ হাজার ৭১১ এবং বরিশাল শিক্ষা বোর্ডে ৫৮ হাজার ৬৬৪ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিচ্ছেন।
আমার বার্তা/এমই

