
তুরস্কে একটি এফ-১৬ যুদ্ধবিমান উড্ডয়নের পরপরই বিধ্বস্ত হয়েছে এবং বিমানটির চালক ঘটনাস্থলেই নিহত হয়েছেন। গতকাল মঙ্গলবার উত্তরপশ্চিমাঞ্চলীয় শহর বালিকেসিরে ঘটেছে এ দুর্ঘটনা।
তুরস্কের সরকারি বার্তাসংস্থা আনাদোলু এজেন্সির বরাত দিয়ে রুশ সংবাদমাধ্যম রাশিয়া টুডে (আরটি) জানিয়েছে, বিধ্বস্ত যুদ্ধবিমানটি ছিলো তুরস্কের বিমানবাহিনীর নবম মেইন জেট কমান্ডের অধীন একটি সামরিক এয়ারক্রাফট। রুটিন মিশন ফ্লাইটের অংশ হিসেবে মঙ্গলবার স্থানীয় সময় রাত ১২টা ৫৬ মিনিটে নবম মেইন জেট কমান্ডের ঘাঁটি থেকে টেক-অফ করে বিমানটি, তার প্রায় ৫ মিনিটের মধ্যে রাত ১টার দিকে ঘাঁটির নিকটস্থ বুরসা-ইজমির হাইওয়েতে বিমানটি বিধ্বস্ত হয়।
এ ঘটনার কিছুক্ষণের মধ্যে বিমান ঘাঁটির নিরাপত্তা কর্মীরা বিমানটি বিধ্বস্ত হওয়ার স্থান খুঁজে বের করেন এবং সেখান থেকে মৃত অবস্থায় চালককে উদ্ধার করেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ফুটেজে দেখা গেছে, যে স্থানে বিধ্বস্ত হয়েছে যুদ্ধবিমানটি— তার আশপাশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে সেটির ধ্বংসাবশেষ।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে পোস্ট করা এক বার্তায় নিহত পাইলটকে ‘শহীদ’ উল্লেখ করে তুরস্কের প্রতিরক্ষা মন্ত্রনালয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, “আমাদের একজন পাইলট শহীদ হয়েছেন। দুর্ঘটনার সঠিক কারণ জানতে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং সেই কমিটি ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছে।”
বিজ্ঞাপন
এফ-১৬ এর পুরো নাম এফ-১৬ ফাইটিং ফ্যালকন। এটি একটি চতুর্থ প্রজন্মের এক ইঞ্জিনের যুদ্ধবিমান এবং সুপারসনিক, অর্থাৎ শব্দের চেয়ে দ্রুতগতিসম্পন্ন। ১৯৭৬ সালে প্রথম এই বিমান তৈরি করা হয়। শুরু থেকেই এফ-১৬ তৈরি করে আসছে মার্কিন সমরাস্ত্র নির্মাতা কোম্পানি লকহিড মার্টিন।
সাম্প্রতিককালে কয়েকটি এফ ১৬ বিধ্বস্তের ঘটনা ঘটেছে। গত জানুয়ারিতে রুটিন মিশন ফ্লাইটে গিয়ে সাগরে বিধ্বস্ত হয় তাইওয়ানের বিমানবাহিনীর একটি এফ-১৬ বিমান। বিধ্বস্ত হওয়ার আগে পাইলট্ বিমান থেকে বের হয়ে যেতে পেরেছিরেন, কিন্তু পরে তার কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি।
তার আগে গত বছর আগস্টে পোল্যান্ডে এয়ার শো করার সময় বিধ্বস্ত হয়েছিল একটি এফ-১৬ যুদ্ধবিমান। সেবারও পাইলট ঘটনাস্থলেই নিহত হয়েছিলেন।
সূত্র : আনাদোলু এজেন্সি, আরটি
আমার বার্তা/জেএইচ

