ই-পেপার বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬, ৪ আষাঢ় ১৪৩৩

প্রদাহ থেকে হতে পারে এই ৩ রোগ, যেভাবে সুস্থ থাকবেন

আমার বার্তা অনলাইন:
০৮ জুন ২০২৬, ১১:৪২

ডায়াবেটিস, ফ্যাটি লিভার এবং হৃদরোগের নেপথ্যে একটি পরিচিত কারণ রয়েছে, সেটি হলো আমাদের বাড়তি ওজন। যে কারণে অনেকেই মনে করেন ওজন কমালে বেশিরভাগ বিপাকীয় স্বাস্থ্য সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে। যদিও স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখা অবশ্যই সহায়ক, তবে আধুনিক গবেষণা দেখাচ্ছে যে পর্দার আড়ালে আরেকটি কারণ খুব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে, সেটি হলো দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহ। বিপাকীয় প্রদাহ হলো মৃদু, দীর্ঘস্থায়ী এবং নীরব। সাধারণত অনুভব করা যায় না, কিন্তু এটি ধীরে ধীরে শরীরের শর্করা প্রক্রিয়াজাতকরণ, চর্বি জমা করা এবং রক্তনালী রক্ষা করার কাজকে প্রভাবিত করে।

লিভার, রক্তে শর্করা এবং হৃদপিণ্ড কীভাবে সম্পর্কিত?

ডায়াবেটিস, ফ্যাটি লিভার এবং হৃদরোগ ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত। এই রোগগুলো একসঙ্গে বিকশিত হয় কারণ এদের বিপাকীয় পথগুলো একই। এই প্রক্রিয়ায় আমাদের যকৃত একটি কেন্দ্রীয় ভূমিকা পালন করে। শরীর প্রয়োজনের চেয়ে বেশি পরিশোধিত শর্করা, চিনি এবং অতিরিক্ত ক্যালোরি নিয়মিত গ্রহণ করলে যকৃত এই অতিরিক্ত শক্তিকে চর্বিতে রূপান্তরিত করতে শুরু করে। ধীরে ধীরে যকৃতের কোষগুলোতে চর্বি জমা হতে থাকে, যা ফ্যাটি লিভার রোগের কারণ হয়।

ফ্যাটি লিভার শুধু চর্বিই জমা করে না, এটি এমন রাসায়নিক সংকেতও নির্গত করে যা সারা শরীরে প্রদাহ বাড়িয়ে তোলে। এই প্রদাহজনক সংকেতগুলো ইনসুলিনের কার্যকারিতায় বাধা সৃষ্টি করে, ফলে শরীরের পক্ষে রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়ে। ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স যত বাড়তে থাকে, অগ্ন্যাশয়কে তত বেশি কাজ করতে হয় এবং রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা বাড়তে শুরু করে। এই প্রদাহজনক প্রক্রিয়াগুলো রক্তনালীর ভেতরের আস্তরণকে প্রভাবিত করে। এর ফলে ধমনীগুলো ক্ষতি এবং প্লাক গঠনের জন্য আরও বেশি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে, যা হৃদরোগ এবং স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়।

আমরা যে খাবার খাই এবং যেভাবে জীবনযাপন করি, তা শরীরের প্রদাহের মাত্রার ওপর শক্তিশালী প্রভাব ফেলে। সঠিকভাবে খাবার গ্রহণ করা হলে তা শরীরকে শান্ত করতে সাহায্য করে। অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত খাবার, অতিরিক্ত চিনি, পরিশোধিত ময়দার তৈরি খাবার এবং ঘন ঘন চিনিযুক্ত পানীয় প্রদাহ বাড়িয়ে দিতে পারে।

এই খাবারগুলো রক্তে শর্করা এবং ইনসুলিনের মাত্রা বারবার বাড়িয়ে দেয়, যা ধীরে ধীরে লিভারে চর্বি জমা করে এবং ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্সকে আরও খারাপ পর্যায়ে নিয়ে যায়। অন্যদিকে, শাক-সবজি, গোটা শস্য, ডাল, বাদাম, বীজ এবং স্বাস্থ্যকর চর্বি সমৃদ্ধ খাবার ভারসাম্যপূর্ণ বিপাকীয় পরিবেশ বজায় রাখতে সাহায্য করে। এই খাবারগুলো ফাইবার, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং উপকারী চর্বি সরবরাহ করে যা অক্সিডেটিভ স্ট্রেস কমাতে এবং অন্ত্রের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সাহায্য করে। যা প্রদাহ কমানোর দুটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান।

এ কারণেই আধুনিক পুষ্টি নির্দেশিকাগুলো শুধুমাত্র ক্যালোরি গণনার চেয়ে খাবারের গুণমানের ওপর জোর দেয়। শুধুমাত্র ওজন নিয়ে কথা বললে পুরো চিত্রটি বোঝা যায় না। একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, বিপাকীয় রোগ শুধুমাত্র অতিরিক্ত ওজনের ব্যক্তিদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। আপনি প্রদাহ মোকাবিলার জন্য ছোট ও সাধারণ পরিবর্তনের ওপর মনোযোগ দিতে পারেন, যা কেবল দৈনন্দিন অভ্যাস এবং দীর্ঘমেয়াদী উপকারে আসে।

প্রদাহ দূর করতে কী করবেন

প্রোটিন গ্রহণ বাড়ান: ভালো মানের প্রোটিন যেমন মসুর ডাল, শিম, সয়া পণ্য, ডিম, দুগ্ধজাত খাবার, বাদাম এবং বীজ খাদ্যতালিকায় যোগ করুন। এই খাবারগুলো রক্তে শর্করার মাত্রা স্থিতিশীল রাখতে এবং পেশীর স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সাহায্য করে।

পরিশোধিত কার্বোহাইড্রেট সীমিত করুন: সাদা ময়দা দিয়ে তৈরি খাবার, চিনিযুক্ত মিষ্টি এবং মিষ্টি পানীয় কমালে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা বারবার বেড়ে যাওয়া প্রতিরোধ করা যায়।

প্রতিটি খাবারে ফাইবার যোগ করুন: শাক-সবজি, ফল, গোটা শস্য এবং ডাল অন্ত্রের উপকারী ব্যাকটেরিয়ার খাদ্য যোগায় এবং ক্ষুধা ও রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।

স্বাস্থ্যকর ফ্যাট অন্তর্ভুক্ত করুন: বাদাম, বীজ, অলিভ অয়েল এবং তৈলাক্ত মাছে এমন ফ্যাট থাকে যা হৃৎপিণ্ডের স্বাস্থ্য ভালো রাখে এবং প্রদাহ কমায়।

শারীরিকভাবে সক্রিয় থাকুন: নিয়মিত নড়াচড়া ইনসুলিন সংবেদনশীলতা উন্নত করে এবং লিভারের স্বাস্থ্য ভালো রাখে। এমনকী প্রতিদিন হাঁটলেও অনেকটা পরিবর্তন আসতে পারে।

ঘুমের যত্ন নিন এবং মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ করুন: অপর্যাপ্ত ঘুম এবং দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপ প্রদাহ সৃষ্টিকারী হরমোন বাড়াতে পারে এবং বিপাকীয় ভারসাম্যহীনতাকে আরও বাড়িয়ে দেয়। তাই আপনার ঘুমের যত্ন নিন ও মানসিক চাপমুক্ত থাকার চেষ্টা করুন।

আমার বার্তা /জেএইচ

ইউরিক অ্যাসিড নিয়ন্ত্রণে রাখতে যে ৭ খাবার বাদ দেবেন

ইউরিক অ্যাসিডের উচ্চ মাত্রা গেঁটেবাত, কিডনিতে পাথর এবং অন্যান্য স্বাস্থ্য জটিলতার ঝুঁকি বাড়াতে পারে। তাই

অতিরিক্ত ডিম খেলে শরীরে কী ঘটে?

সবচেয়ে পুষ্টিকর খাবারের মধ্যে অন্যতম হলো ডিম, যা সহজেই প্রতিদিনের খাবারে রাখা যায়। এতে রয়েছে

মা ও শিশু ভাতার উপকারভোগী বাড়ছে ১.২৪ লাখ

গর্ভবতী মা ও নবজাতক শিশুদের সুরক্ষায় পরিচালিত ‘মা ও শিশু সহায়তা কর্মসূচি’র আওতায় আগামী অর্থবছরে

শুধু ত্বক নয়, সূর্যের ক্ষতি থেকে চুলও বাঁচাবে সানস্ক্রিন

গরমে ত্বকের যত্নে আমরা সবাই সানস্ক্রিন ব্যবহার করি, কিন্তু একই রোদের নিচে থাকা চুলের সুরক্ষার
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় স্মার্ট গ্রীন সিটি গড়ার উদ্যোগ নিয়েছেন কবীর আহমেদ ভূঁইয়া

সংসদে ‘আই হ্যাভ অ্যা প্ল্যান’র ব্যাখ্যা দিলেন প্রধানমন্ত্রী

বিশ্বকাপ ম্যাচে যে কারণে মাটিতে রাখা হয়নি সৌদি আরবের পতাকা

একদিনে হাম ও হামের উপসর্গে আরও ৪ জনের মৃত্যু: স্বাস্থ্য অধিদপ্তর

মাদক, ছিনতাই ও কিশোর গ্যাং দমনে সরকার বদ্ধপরিকর: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

হঠাৎ কেন ফেসবুক-ইনস্টাগ্রামের জন্য টাকা নিচ্ছে মেটা

মিয়ানমারের সদিচ্ছার ওপর নির্ভর করছে রোহিঙ্গা প্রত‌্যাবাসন: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

মাদক কারবারি, চাঁদাবাজদের গ্রেফতারের নির্দেশ ডিএমপি কমিশনারের

সামান্য বরাদ্দে সরকারের ২০৩০ সালের জ্বালানি রূপান্তর লক্ষ্য অসম্ভব

তিস্তায় আরেকটি ব্যারাজ নির্মাণে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে: প্রধানমন্ত্রী

সরকারি কলেজ-মাদ্রাসায় অধ্যাপক পদে শূন্যপদের তথ্য চেয়েছে মাউশি

দেশের ৭৫টি কারাগারে ধারণক্ষমতার ১.৭ গুণ বন্দি আটক: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

বেগম রোকেয়া পদক দিতে শিক্ষা খাতের যোগ্য নারীদের খুঁজছে সরকার

পররাষ্ট্রনীতির প্রধান লক্ষ্য কূটনৈতিক সম্পর্কের কৌশলগত ভারসাম্য রক্ষা

ব্যাটিং ব্যর্থতায় অস্ট্রেলিয়ার কাছে ৫ উইকেটে হারল বাংলাদেশ

ইংলিশ চ্যানেলে রাশিয়ার গুলিবর্ষণ, বেপরোয়া বললেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী

চালের দাম ও সরবরাহ পরিস্থিতি বর্তমানে যথেষ্ট স্থিতিশীল: বাণিজ্যমন্ত্রী

৫ বছরের মধ্যে কর জিডিপি অনুপাত ১০ শতাংশে উন্নীত করা সম্ভব হবে

স্বাধীন গণমাধ্যম কমিশন গঠনের লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে: তথ্যমন্ত্রী

সীমান্তে হত্যা মানবাধিকার লঙ্ঘন, বিএসএফকে জোরালো প্রতিবাদ