
প্রস্তাবিত বাজেটে বিদ্যুৎ উৎপাদন খাতে বরাদ্দের মাত্র ২ শতাংশ নবায়নযোগ্য জ্বালানির জন্য রাখা হয়েছে। বাকি ৯৮ শতাংশই জীবাশ্ম জ্বালানির দখলে। এমন বাস্তবতায় সরকারের ২০৩০ সালের জ্বালানি রূপান্তরের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)।
সংস্থাটি বলছে, বিশাল বাজেটের তুলনায় নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে বরাদ্দ অত্যন্ত সামান্য। তবে বৈদ্যুতিক গাড়ির (ইভি) চার্জিং স্টেশনে কর সম্পূর্ণ প্রত্যাহার এবং নিবন্ধন ফি কমানোর উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছে তারা।
বুধবার (১৭ জুন) সকালে রাজধানীর ধানমন্ডিতে সিপিডি কার্যালয়ে আয়োজিত ‘২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেট: বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাত কী পেল?’ শীর্ষক মিডিয়া ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়।
এতে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সিপিডির সিনিয়র রিসার্চ অ্যাসোসিয়েট হেলেন মাশিয়াত প্রিয়তী। অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন বাংলাদেশ সাসটেইনেবল অ্যান্ড রিনিউয়েবল এনার্জি অ্যাসোসিয়েশনের (বিএসআরইএ) সভাপতি মোস্তফা আল মাহমুদ, ডেমোক্রেটিক বাজেট মুভমেন্টের সাধারণ সম্পাদক মনোয়ার মোস্তফা এবং ইডকলের চিফ রিস্ক অফিসার মোহাম্মদ জাবেদ ইমরান।
হেলেন মাশিয়াত প্রিয়তী বলেন, সরকারের প্রশাসনযন্ত্র এবং বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের মধ্যে এখনো জীবাশ্ম জ্বালানিকেন্দ্রিক একটি মনোভাব বিদ্যমান রয়েছে। প্রস্তাবিত রাজস্ব কাঠামোতেও তার প্রতিফলন দেখা যায়।
তিনি জানান, প্রস্তাবিত বাজেটে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের জন্য মোট ১৭ হাজার ৩৪৫ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে, যা চলতি অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটের তুলনায় ২ দশমিক ৩ শতাংশ বেশি। তবে জাতীয় বাজেটে এ খাতের অংশ ২ দশমিক ১৫ শতাংশ থেকে কমে ১ দশমিক ৮৫ শতাংশে নেমে এসেছে।
এর মধ্যে বিদ্যুৎ বিভাগের বরাদ্দ কমে ১৪ হাজার ৯৯৬ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে, যা আগের তুলনায় ৩ দশমিক ৯ শতাংশ কম। অন্যদিকে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের বরাদ্দ প্রায় ৭২ শতাংশ বেড়েছে, মূলত গ্যাস অনুসন্ধান ও উত্তোলন প্রকল্পে গুরুত্ব দেওয়ার কারণে।
প্রিয়তী বলেন, প্রস্তাবিত বাজেটে প্রথমবারের মতো সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন খাতকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সৌরবিদ্যুৎ খাতের জন্য ২০৩৫ সাল পর্যন্ত শূন্য শতাংশ করহার (কর অবকাশ) প্রস্তাব করা হয়েছে। পাশাপাশি সৌরবিদ্যুতের বিল পরিশোধে ৫ শতাংশ কর রিবেট দেওয়ার প্রস্তাবও রয়েছে।
তিনি বলেন, বর্তমানে সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের বিভিন্ন যন্ত্রাংশের ওপর উচ্চ করভার রয়েছে। প্রস্তাবিত বাজেটে অ্যালুমিনিয়াম ও স্টিল কাঠামো, ইলেকট্রিক কন্ডাক্টর, লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারি, সোলার ইনভার্টার এবং সোলার প্যানেলের করহার উল্লেখযোগ্যভাবে কমানোর প্রস্তাব করা হয়েছে।
তবে সিপিডির মতে, এলএনজি আমদানিতে ভ্যাট অব্যাহতি বহাল রাখা হয়েছে, যা এটিকে সবচেয়ে কম করযুক্ত জ্বালানির অবস্থানে রেখেছে। একই সঙ্গে বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য কয়লা আমদানিতে শুল্ক-সুবিধা ২০৩০ সাল পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।
সংস্থাটি বলছে, একদিকে এলএনজি ও কয়লাভিত্তিক জ্বালানিকে কর-সুবিধা দেওয়া হচ্ছে, অন্যদিকে নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বরাদ্দ সীমিত রাখা হয়েছে। এটি সরকারের ঘোষিত জ্বালানি রূপান্তর নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
মিডিয়া ব্রিফিংয়ে সিপিডির গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, ‘বাইরের দিকে এক ধরনের প্রণোদনা দেওয়া হলেও ভেতরে ভেতরে এখনো জীবাশ্ম জ্বালানির প্রতিই ঝোঁক বেশি।’
তিনি আরও বলেন, প্রস্তাবিত বাজেট রাজস্ববৈষম্য কমাতে পারেনি। জীবাশ্ম জ্বালানি, এলএনজি, কয়লা ও তেল খাতে দেওয়া বিশেষ সুবিধাগুলো ধীরে ধীরে কমিয়ে আনার প্রয়োজন রয়েছে।
আমার বার্তা/এমই

